গাড়ির সম্পূরক এয়ারব্যাগ বলতে কী বোঝায়?
গাড়ির সাপ্লিমেন্টাল এয়ারব্যাগ, যা সাধারণত প্যাসেঞ্জার এয়ারব্যাগ নামে পরিচিত, হলো গাড়ির প্যাসিভ সেফটি সিস্টেম (এসআরএস, সাপ্লিমেন্টাল ইনফ্ল্যাটেবল রেস্ট্রেইন্ট সিস্টেম)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা সংঘর্ষের সময় যাত্রীর আসনে থাকা আরোহীদের আঘাত কমিয়ে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।
মূল বিষয়গুলো:
সংজ্ঞা ও অবস্থান: প্যাসেঞ্জার এয়ারব্যাগটি যাত্রীর আসনের ড্যাশবোর্ডের সামনে, সাধারণত গ্লাভ কম্পার্টমেন্টের উপরে অথবা ডানদিকের কনসোল ট্রিম প্যানেলের ভিতরে স্থাপন করা থাকে। এর উপরিভাগে প্রায়শই "AIRBAG" বা "SRS" অক্ষরগুলো লেখা থাকে।
কার্যপ্রণালী: যখন কোনো যানবাহন তীব্র সম্মুখ সংঘর্ষের সম্মুখীন হয় (যেমন, ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলার সময় সামনে থেকে ৬০° কোণের মধ্যে সংঘর্ষ হলে), তখন সংঘর্ষ সেন্সরটি ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল ইউনিট (ECU)-তে একটি সংকেত পাঠায়। এই সংকেত গ্যাস জেনারেটরকে সক্রিয় করে এবং দ্রুত নাইট্রোজেন গ্যাস দিয়ে পূর্ণ করে এয়ারব্যাগটিকে ফুলিয়ে তোলে। এর ফলে একটি নরম বায়ুস্তর তৈরি হয় যা গাড়ির ভেতরের কোনো শক্ত বস্তুর (যেমন ড্যাশবোর্ড) সাথে যাত্রীর কোনো ‘দ্বিতীয় সংঘর্ষ’ হওয়ার আগে একটি বাফার হিসেবে কাজ করে।
- সুরক্ষা কার্যকারিতা: সিট বেল্টের সাথে একত্রে ব্যবহার করা হলে, এটি মাথার উপর আঘাতের তীব্রতা প্রায় ৭৫% এবং বুকের আঘাত ৪৪% পর্যন্ত কমাতে পারে।
একা ব্যবহার করলে দ্রুত ছিটকে বের হওয়ার কারণে অতিরিক্ত আঘাত (যেমন মুখমণ্ডল পুড়ে যাওয়া, ঘাড় মচকে যাওয়া) হতে পারে।
ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা: ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের যাত্রীর আসনে বসানো যাবে না; এয়ারব্যাগ সুইচ থাকলেও তা ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
- খোলার সময়কার অভিঘাত বল: এয়ারব্যাগ খোলার ফলে সৃষ্ট বল ২০০-৫০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। সিট বেল্ট না থাকলে বা শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে থাকলে, এটি সহজেই গুরুতর বা এমনকি প্রাণঘাতী আঘাতের কারণ হতে পারে।
- বিশেষ প্রকারভেদ: সম্প্রতি, কিছু গাড়ির মডেলে 'প্যাসেঞ্জার সিট কুশন টাইপ এয়ারব্যাগ' যুক্ত করা হয়েছে, যা সিট কুশনের সামনের দিকে অবস্থিত এবং এর প্রধান কাজ হলো যাত্রীর শরীরের নিচের অংশের নড়াচড়া সীমিত করে পা গ্লাভ কম্পার্টমেন্টের ভেতরে পিছলে যাওয়া প্রতিরোধ করা, এবং বসার ভঙ্গি উন্নত করার মাধ্যমে সিট বেল্টের সুরক্ষার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা।
ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ: গাড়ি স্টার্ট করার সময় যদি ড্যাশবোর্ডের SRS ইন্ডিকেটর লাইটটি ক্রমাগত জ্বলে থাকে বা ফ্ল্যাশ করতে থাকে, তবে এটি সিস্টেমের ত্রুটি নির্দেশ করে এবং এর জন্য অবিলম্বে পেশাদারী মেরামত প্রয়োজন।
এয়ারব্যাগ একবারই লাগাতে হয়। এটি ফেটে গেলে পুরো সিস্টেমটি (সেন্সর, ইসিইউ, এয়ারব্যাগ বডি ইত্যাদি সহ) অবশ্যই বদলাতে হবে।
বিশেষ বিবেচ্য বিষয়:
প্যাসেঞ্জার এয়ারব্যাগ (অর্থাৎ, যাত্রীর আসনে থাকা এয়ারব্যাগ) গাড়ির প্যাসিভ সেফটি সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা মূলত সংঘর্ষের সময় যাত্রীর আসনে থাকা যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য একটি বাফার হিসেবে কাজ করে এবং আঘাতের মাত্রা কমিয়ে আনে। সর্বশেষ সর্বজনীনভাবে উপলব্ধ তথ্য অনুসারে, এর মূল কাজ এবং বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
- প্রধান কাজ: আঘাতের তীব্রতা কমানো; দ্রুত স্ফীত হয়ে একটি বায়ু কুশন তৈরি করা যা সংঘর্ষের শক্তি শোষণ করে এবং আরোহীর মাথা ও বুকের উপর আঘাতের তীব্রতা হ্রাস করে।
- দ্বিতীয় সংঘর্ষ প্রতিরোধ: গাড়ির ভেতরের শক্ত বস্তু (যেমন ড্যাশবোর্ড, গ্লাভ কম্পার্টমেন্ট) এবং যাত্রীর শরীরের মধ্যে সরাসরি সংস্পর্শ এড়ানো।
- সিট বেল্টের সাথে সমন্বয়: সিট বেল্টের সাথে একত্রে ব্যবহার করা হলে, এটি সুরক্ষার কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে - গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি মাথার উপর আঘাতের শক্তি প্রায় ৭৫% পর্যন্ত কমাতে পারে।
- সক্রিয় হওয়ার শর্ত: সাধারণত, এর জন্য গাড়ির গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারের বেশি এবং সামনে থেকে ৬০° কোণের মধ্যে সংঘর্ষ প্রয়োজন হয়।
সিস্টেমের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত: সেন্সর দ্বারা সংঘর্ষ শনাক্ত হওয়া থেকে শুরু করে এয়ারব্যাগ সম্পূর্ণরূপে ফুলে ওঠা পর্যন্ত প্রায় ০.০১৫ সেকেন্ড (১৫ মিলিসেকেন্ড) সময় লাগে।
- প্রকারভেদ এবং বর্ধিত ফাংশনসমূহ:
- প্রচলিত প্যাসেঞ্জার ফ্রন্টাল এয়ারব্যাগ: এটি কনসোলের ডান পাশে বা গ্লাভ কম্পার্টমেন্টের উপরে স্থাপন করা হয় এবং প্রধানত মাথা ও বুককে সুরক্ষা দেয়।
- প্যাসেঞ্জার সিট কুশন টাইপ এয়ারব্যাগ: এটি সিট কুশনের সামনের দিকে অবস্থিত। এটি যাত্রীর শরীরের নিচের অংশের নড়াচড়া সীমিত করে অতিরিক্ত সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া প্রতিরোধ করে, যা সিট বেল্টের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে এবং পা ও শ্রোণীচক্রের আঘাত কমায়। যদি আপনাকে গাড়িতে ভ্রমণ করতেই হয়, তবে সেকেন্ডারি এয়ারব্যাগ লকিং ফাংশনটি সক্রিয় করা উচিত (কিছু মডেলে ম্যানুয়াল বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় করার সুবিধা রয়েছে)।
যাত্রীর আসনের আশেপাশে শক্ত জিনিসপত্র রাখবেন না, যেমন পারফিউমের বোতল, ফোন হোল্ডার ইত্যাদি। এয়ারব্যাগ খোলার সময় এগুলো প্রচণ্ড গতিতে ছিটকে গিয়ে অতিরিক্ত আঘাতের কারণ হতে পারে।
প্রযুক্তিগত প্রবণতা
উচ্চ-মানের মডেলগুলিতে 'সেকেন্ডারি ইনফ্লেশন টেকনোলজি' ব্যবহার করা হয়েছে, যা সংঘর্ষের তীব্রতা অনুযায়ী গতিশীলভাবে এয়ারব্যাগের স্ফীতির পরিমাণ সমন্বয় করে।
কিছু মডেল (যেমন আইডিয়াল এল৯) পেটেন্ট করা প্রযুক্তির মাধ্যমে বড় স্ক্রিন এবং এয়ারব্যাগ সক্রিয় হওয়ার অবস্থানের মধ্যকার সামঞ্জস্যের সমস্যার সমাধান করে।
দ্রষ্টব্য: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, খরচ নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু এন্ট্রি-লেভেল মডেল (যেমন চ্যাংগান লুমিন ট্রেজার এডিশন) থেকে যাত্রীর আসনের এয়ারব্যাগ বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গাড়ি কেনার সময় সামনে ও পেছনে উভয় এয়ারব্যাগযুক্ত মডেল বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আপনি যদি আরও জানতে চান, তাহলে এই সাইটের অন্যান্য নিবন্ধগুলো পড়তে থাকুন!
আপনার এই ধরনের পণ্যের প্রয়োজন হলে আমাদের ফোন করুন।
ঝুও মেং সাংহাই অটো কোং, লিমিটেড এমজি বিক্রি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধম্যাক্সাসগাড়ির যন্ত্রাংশ স্বাগত কিনতে.