গ্যাস পেডালে সামান্য কম্পন হচ্ছে।
গাড়ির প্রথম দিকের অ্যাক্সিলারেটর পেডাল মডেলগুলো ছিল টানা তারের, এবং এখন এগুলো মূলত হল সেন্সর (Hall sensors), তাই অ্যাক্সিলারেটর পেডালের উপরে কোনো মোটর বা ঘূর্ণায়মান অংশ থাকে না। ফলে, অ্যাক্সিলারেটর পেডালের সামান্য কম্পন সাধারণত ইঞ্জিনের অতিরিক্ত ঝাঁকুনি বা গাড়ির বডির অনুরণনের কারণে হয়ে থাকে, যা উপরের অ্যাক্সিলারেটর পেডালে সঞ্চারিত হয়। এর ব্যর্থতার সম্ভাব্য কারণগুলো নিম্নরূপ:
প্রথম ক্ষেত্রে, দীর্ঘদিন ধরে ইঞ্জিনের ইগনিশন কয়েল বা স্পার্ক প্লাগ প্রতিস্থাপন না করার কারণে এর ভেতরের ইনসুলেশন অংশগুলো পুরোনো হয়ে যায়, যার ফলে সেকেন্ডারি ফায়ার লাফিয়ে ওঠে বা এর কার্যকারিতা কমে যায়। এর পরিণতিতে ইঞ্জিন মসৃণভাবে চলতে পারে না এবং ঝাঁকুনি অ্যাক্সিলারেটর পেডালেও অনুভূত হয়। এর সমাধান হলো ক্ষতিগ্রস্ত ইগনিশন কয়েলটি অথবা নতুন এক সেট স্পার্ক প্লাগ প্রতিস্থাপন করা।
দ্বিতীয়ত, ঠিকমতো জ্বালানি ভরা না হলে অথবা শহরে দীর্ঘক্ষণ থেমে থেমে চলার কারণে গাড়ির ইঞ্জিন উচ্চ গতি তুলতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে ইঞ্জিনের ভেতরে অতিরিক্ত কার্বন জমে যায় এবং গাড়ির নজল দিয়ে সিলিন্ডারে প্রবেশ করা জ্বালানিতে কার্বন জমা হয়। এতে ইঞ্জিন সর্বোত্তম অবস্থায় কাজ করতে পারে না এবং এর কম্পন গ্যাস পেডালে সঞ্চারিত হয়।
তৃতীয়ত, ইঞ্জিন বা ট্রান্সমিশন মেশিনের ম্যাট পুরোনো হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, তা আর ঝাঁকুনি প্রশমিত করার কাজ করতে পারে না। ফলে ইঞ্জিনের কম্পন গাড়ির বডির মাধ্যমে ককপিটের স্টিয়ারিং হুইলে এবং অ্যাক্সিলারেটর পেডালে সঞ্চারিত হয়। এর সমাধান হলো ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিন বা গিয়ারবক্সের ফ্লোর ম্যাটটি বদলে ফেলা।
চতুর্থত, ইঞ্জিনের থ্রটল অতিরিক্ত অপরিষ্কার থাকলে, ইঞ্জিনের ভেতরের বাতাস সিলিন্ডারে দহনের জন্য সমানভাবে পৌঁছায় না, যার ফলে ইঞ্জিনে ঝাঁকুনি সৃষ্টি হয়। এই ঝাঁকুনি স্টিয়ারিং হুইলেও স্থানান্তরিত হয়, এবং ফলস্বরূপ ঝাঁকুনিটি অ্যাক্সিলারেটর পেডালেও সঞ্চারিত হয়।
পঞ্চম, টায়ারের ডাইনামিক ব্যালেন্স ভালো না থাকার কারণে গাড়ি চালানোর সময় বডিতে অনুরণন সৃষ্টি হয়। এই অনুরণন বডিতে সঞ্চারিত হয়ে অ্যাক্সিলারেটর পেডালে কম্পনের সৃষ্টি করে। এই অবস্থায় আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে গিয়ে চার চাকার ডাইনামিক ব্যালেন্স করিয়ে নিতে হবে।